Check PAGE RANK of Website pages Instantly

Check Page Rank of your Web site pages instantly:

This page rank checking tool is powered by PRChecker.info service

Wednesday, June 27, 2018

লামায় তথ্য বিভাগের নারী ও শিশু উন্নয়ন সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালিত

বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নারীদের স্বার্থকতা অর্জনের ভুমিকা ছড়িয়ে পড়ছে
লামায় নারী ও শিশু উন্নয়ন সচেতনতামূলক কর্মসূচী পালিত
কার্টেসিঃ মোহাম্মদ কামারুজ্জামা, সাংবাদিক, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
***************************
লামা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যেগে শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, শিশুদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। বুদ্ধিদীপ্ত ও কর্মমুখি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলতে হবে আগামী প্রজম্মকে। সভাপতির বক্তব্যে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মন দিয়ে পড়ালেখা করে প্রত্যেককে সু-নাগরিক হতে হবে। নারী শিক্ষার উপর সরকার অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ধারাবাহিক নারীবান্ধব কর্মকান্ড অব্যাহত রাখায়, বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারীরা গৌরবোজ্জল ভুমিকা রাখছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পীকারসহ প্রশাসন ও রাজনীতিতে নারীর স্বার্থক অগ্রগামী ভুমিকা বিশ্ব ব্যাপি প্রসংশা ছড়িয়ে পড়েছে। সূতরাং বাল্য বিবাহের বিষয়টি চিন্তা না করে নারী শিশুদেরকে আগামী দিনের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলতে হবে।
**
বুধবার তথ্য বিভাগের যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের জিওবি খাতের আওতায় এ কর্মসূচী পালিত হয়। এ উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এক র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন হল মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
**
অনুষ্ঠানে শিশুরদের পানিতে ডুবা প্রতিরোধ, অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, দুর্যোগকালীন নারী ও শিশুর সচেতনতা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও শিশু সুরক্ষা সম্পর্কে উপজেলা মৎস্য অফিসার রাশেদ পারভেজ আলোচনা করেন। বর্তমান সরকারের শিক্ষা, জন্ম নিবন্ধন, শিশুর অধিকার, শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া, মাদক ও  জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ, বাল্য বিবাহ ও যৌতুকমুক্ত সমাজ, ইভটিজিং ও নারীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির উপর পুলিশ পরিদর্শক অপ্পেলা রাজু নাহা বক্তব্যদেন। নারী ও শিশু অধিকার, মাদক ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ যৌতুক ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃত্ব ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
**
অন্যান্যদের মধ্যে তথ্য অফিসার মো. রুহুল আমিন চৌধুরী শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জোবাইরা বেগম, প্রেসক্লাব সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়–য়া বক্তব্য রাখেন। কর্মসুচিতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শেষে উদ্বুদ্ধকরণে স্থানীয় শিল্পিদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান ও তথ্য অফিস-কর্তৃক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

Monday, June 18, 2018

লামা-আলীকদমে নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধিঃ সাংবাদিক মোহাম্মাদ কামারুজ্জামান এর সমমসাময়িক কলাম

সাংবাদিক মোহাম্মাদ কামারুজ্জামান এর সমমসাময়িক কলামঃ সময় যত আধুনিক আর নারী বান্ধব হচ্ছে, ততই নারী নিগৃহের ঘটনা বাড়ছে সমাজ পরিমন্ডলে, লামা-আলীকদমে নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে!!!
*****************************************
লামা-আলীকদমে নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। । গত তিন বছরে লামা-আলীকদম উপজেলায় বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো প্রমান করে; কতটুকু নির্দয় আর নিষ্টুর ও বর্বর আচরণ হচ্ছে নারীর সাথে। ২০১৪ সালে লামা পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে পাষন্ড স্বামীর দায়ের কোপে শিক্ষিকা অন্তস্বত্তা স্ত্রী মাক্যচিং মার্মা ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায়। খুনী স্বামী জামিনে মুক্ত হয়ে দিব্যি পৃথিবীর আলো বাতাশ নিচ্ছে(!)। এভাবে বিভিন্ন বয়সের অনেক নারী স্বামী-তথাকতিথ প্রেমিক কিংবা পারিবারিক অবজ্ঞা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়ার নজির রয়েছে। দেশের আইন নারীর অনুকুলে থাকলেও প্রয়োগিক ক্ষেত্রে স্বার্থজালে আটকা পড়ে সংশ্লিষ্টরা। ফলে নির্যাতিত নারীরা সামাজিক বিচার বিড়ম্বনায় ভোগছে। অপরদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা অসহায় হয়ে দাসত্ব বরণ করে নেয়ারমতো হচ্ছে। সমাজ সভ্যতা শুনতে পায়না নিগৃহের শিকার কণ্যা-যায়া-জননীদের বোবা কান্না। অবস্থা এমনটাই হয়েছে; স্বীয় গৃহেও নিরাপদ নয় নারীরা(!)
**
১৬ জুন গভীর রাতে লামায় এক কলেজ ছাত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে । লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা অংহ্লাড়ী উক্যচিং কারবারী পাড়ায় ক্যাহ্লা অং মার্মার কিশোরী মেয়েকে ঘুমুন্তবস্থায় হত্যা করেছে দূর্ববৃত্তরা। খোজ নিয়ে জানাযায়, রাতে পিতা কণ্যা একই ঘরে পাশাপাশি রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। সকাল বেলা মেয়ের বিবস্ত্রব লাশ দেখে বাবা চিৎকার করেন। পিতার সুর চিৎকারে প্রতিবেশিরা এসে বিছানায় মেয়েটির নিস্প্রান দেহ দেখতে পায়। ওই সময় কিশোরীর রুমের জানালাটি ভাঙ্গা ও দরজা খোলাবস্থায় দেখেন পাড়ার লোকজন। জানাযায়, নিহত কিশোরীর মা গত কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়িতে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন। শনিবার রাতে তাদের ঘরে পাশাপাশি দু’রুমে পিতা-মেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।  কিশোরীটি এ বছর ‘মাতামুহুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আর দু’মাস পরে পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষনের কোন আলামত বা শরীরে কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানায়।
**
রবিবার ছিল বিশ্ব বাবা দিবস, কিন্তু হতভাগ্য বাবা ক্যাহ্লা অং মার্মা বিশ্ব বাবা দিবসের প্রথম সকালে দেখলো নিজ সন্তানের বিবস্ত্র লাশ (!)। নির্দয় ও পৈচাশিকভাবে ১৯ বছর বয়সের কলেজ পড়–য়া কিশোরীকে  হত্যার ঘটনা, যে কোন বিবেককে কাঁদিয়ে তুলবে। হত্যাকারীরা নিহতের শরীর থেকে স্বর্ণালংকার, ব্যাক্তিগত ব্যবহারের মোবাইল ফোন ও সাথে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যায়।
**
সমাজে এমন অনেক নারী রয়েছে, যাঁরা নির্যাতন হতে হতে মরে বেচেঁ আছে। প্রশাসনের দীর্ঘ সূত্রিতাকে এ ক্ষেত্রে দায়ি করছেন লোকজন। অনেক সময় পবিত্র সম্পর্কের দোহাই দিয়ে স্বামী নামের পাষন্ড পুরুষ মানুষটিকে নারীর প্রতি আরো হীংস্র হওয়ার সুযোগ করে দেয় প্রচলিত সামাজিক নিয়ম। বলা হয় স্বামী স্ত্রীর দ্বন্ধ, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। আসলে কি ঠিক হয়ে যাবে কিনা? নারী নির্যাতনের সামাজিক সূচক বিবেচনায় কতটা যুক্তি মিলে এই কথায়। এমন প্রশ্ন জাগাটা উচিৎ। নাকি কিছুদিন পরে সম্পর্কের জোড়া-তালির নামে নারীর প্রতি আত্মঘাতি হামলা বা সামাজিকভাবে হেয়পতিপন্ন করার পরিকল্পনা চলছে; স্থান-কাল পাত্র ভেদে সেই দিকগলোও ভাবা উচিৎ। এ রিপোর্টের উজ্জল দৃষ্টান্ত হচ্ছে আলীকদম উপজেলার এক স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনকারী শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম ও তার ষোড়শী কণ্যা।
**
জানা গেছে, এই শিক্ষিকা তার দেবর আলীকদম উপজেলার থোয়াইচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ও স্বামী চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আলীকদম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে। এ ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকদ্বয়কে বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১০ এপ্রিল ১৪৭ নম্বর স্মারকের অফিস আদেশে সাময়িক বরখাস্ত করেন । গত ২৫ মে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) ১১(গ)/৩০ ধারায় চার্জশীট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আলীকদম থানার ওসি রফিক উল্লাহ্। এছাড়াও শিক্ষিকার অভিযুক্ত স্বামী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চকরিয়া কোর্টে সি.আর মামলা নং- ১৩০/২০১৮ রুজু হয়। এ মামলার সাক্ষী হচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার দক্ষিণ কাকারা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম।
**
শিক্ষিকা জয়নব আরার অভিযোগে প্রকাশ, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল মামলার বাদী জয়নব আরা বেগম ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মনগড়া কুৎসা রটিয়ে বান্দরবান চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং- ৩৯/২০১৮ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে এ মামলার তদন্ত করেন, আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিসার ইস্কান্দর নুরী। তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৯ এপ্রিল ১৩৯ নম্বর স্মারকে ‘সাক্ষ্য-প্রমাণে কথিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি’ মর্মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
**
মামলার বাদী নির্যাতিত জয়নব আরা বেগম বলেন, শিক্ষক শফিকুল এবং তার দুই সহোদর মনিরুল ও জহিরুলের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশীট, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক শফিকুলের দায়ের করা মামলা মিথ্যা মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর থেকে তারা তিন সহোদর মারমুখী হয়ে পড়ে। শুরু করেন উন্মাদের মতো আচরণ। এরপর থেকে শফিকুল তার ফেসবুক আইডিতে অশ্লীল ও মানহানিকর ছবি এবং লিফলেট আপলোড করে চলেছে। এছাড়াও শফিকুল ও মনিরুল মিলে চকরিয়ার কাকারা গ্রামে এবং আলীকদম উপজেলার বাস স্টেশন, পানবাজার, চৌমুহুনী ও আলীকদম বাজার এলাকার বিভিন্ন ওয়ালে শিক্ষিকা জয়নব ও স্থানীয় রিপোর্টার ও মানবাধিকার কর্মি, মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জড়িয়ে  চরিত্রহনন করে পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম আইসিটি এ্যাক্ট-এ মামলা করতে গিয়েও পারেননি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে এই ন্যাক্কার জনক ও ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র মূলক ঘটনার কথা সর্ব মহল জ্ঞাত রয়েছেন। এদিকে আইনের ফাকগলে শফিকুল ইসলাম ও তার সহোদররা চরমভাবে মারমুখি হয়ে উঠে জয়নব ও তাকে মানবিক সহায়তাকারীসহ তার আত্মীয়-স্বজনের উপর।
**
জানাযায়, গত ১৫ জুন চকরিয়া উপজেলা মাঝেরফাড়ি বাজারে মামলার সাক্ষী রেজাউল করিমকে অতর্কিত আক্রমণ করে মামলার ১নম্বর আসামী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযুক্ত তিন সহোদর। এ সময় ছুরি দিয়ে রেজাউল করিমে মারাত্মক জখম করে শফিকুল ইসলাম। তার অপর দুইভাই মনিরুল ও জহিরুলও ছুরি ও ইটের আঘাতে উপর্যুপরি জখম করেন রেজাউলকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামীদের খুন-জখমের কবল থেকে রেজাউলকে উদ্ধার করেন ওই এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার বাদশা মিয়াসহ স্থানীয়রা। ছুরি ও ইটের আঘাতে রেজাউলের ডান চোখ দৃষ্টি হারাতে চলেছেন বলে আশংকা করছেন ডাক্তার ও আহতের পরিবার-পরিজন। এ ঘটনার সময় রেজাউল করিম থেকে অভিযুক্ত শফিক, জহিরুল ও মনির জোর করে ৮৫ হাজার টাকা ও একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ছিনিয়ে নেয় বলে থানায় করা এজাহারে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুইজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক। দুই সহোদর শিক্ষকের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে-বাজারে মামলার ঘটনাটি প্রকাশ্য সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয়রা
**
ঘটনার হোতা অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও ফেসবুকে ছবি ও লিফলেট আপলোডের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে চাকুরী থেকে সাময়িক সাসপেন্ড আদেশ দিয়েছেন। আমি বর্তমানে ৫/৬ মামলার আসামী। তাই আমার মাথা ঠিক নেই(!)।
**
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাদশা মিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি শফিকসহ তিন ভাইকে এই সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নিতে দেখেছি। এ ঘটনায় আহত রেজাউল কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। কাকারা গ্রামের লোকজন জানান, শফিকসহ তারা তিন ভাইয়ে গত কয়েক বছর আগে স্থানীয় এক যুবককে লাঠিদ্বারা প্রকাশ্যে বেদম প্রহার করে, তা ভিডিও ধারণ করে মোবাইলে আপলোড করা হয়। ওই নিষ্টুর হামলার কোন বিচার না হওয়ায় তারা আরো হীংস্র হয়ে উঠে। অবশেষে তাদের হীং¯্র আছড় লাগতে শুরু করেছে, শিক্ষিকা জয়নব আরাসহ তাদের সন্তান, আত্মীয় স্বজনসহ ঘোটা সমাজ পরিমন্ডলে। এদিকে শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম জানান, শফিকুল ইসলামের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা প্রায়ই গভীর রাতে তার ঘরের দরজায় গিয়ে নানান ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। সে এবং তার দশম শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়েকে নিয়ে নানান মন্তব্য ছড়াচ্ছে সমাজে। এসব অপবাদের যন্ত্রণায় তারা মা মেয়ে এখন মরে বেচেঁ আছেন। শফিকুলদের বেপরোয়া, সন্ত্রাসী, মারণাত্মক আচরণ থেকে প্রাণে বাঁচতে শিক্ষিকা জয়নব আরা বেগম সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী মহলসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আরো সজাগ ও সচেতন দৃষ্টি কামণা করেছেন।
**
এই বাস্তবতায় বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। আইন প্রয়োগকারী দায়িত্বশীলরা ঢিলেঢালা ভাব বা নিরব ভুমিকা পালন করা মোটেও কাম্য নয়। ঘাতকদের মগজের কোণে স্থান নেয়া অপরাধ জিবানুটি দ্রুত ধংস করা না হলে, এর প্রভাব সমগ্র সমাজ শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। তখন হয়তো এর নিষ্ঠুর খেসারত শুধু নিরিহ নারী বা সমাজের লোকদেরকেই দিতে হবে। সূতরাং সম্পর্কের দোহাই দিয়ে ঘাতক চক্রকে সুযোগ করে দেয়ার কোন মানে হয়না। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নজরে আনা প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।
*****************************************
লেখকঃ সাংবাদিক, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

Thursday, May 31, 2018

হাসিনা-মোদি বৈঠক : কি পেল বাংলাদেশ!!!


।। মো. ফরিদ উদ্দিন ।।
শান্তিনিকেতনে‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন এবং হাসিনা-মোদি বৈঠক,কি পেল বাংলাদেশ! বাংলাদেশ-ভারত একেই মায়ের দু’ ভুমি সন্তান’ সংসারের আয়-ব্যয় হিসাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পৃথক হলেও মনের বিভক্ত এক সুতায় গাথা। তাই তো বিপদে আপদে ভারতকে আমাদের পাশে পাই।একেই বলে বন্ধুত্ব,দু’দেশের সু-সর্ম্পক দীর্ঘায়ু হলে বিশ্বায়নে এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ ও ভারত।আমরা যদি বাংলাদেশ একটি ডিমের সাথে তুলনা করি, তাহলে উপর নিরাপত্তা আবরণ হলো ভারত। 
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসাবে আত্ব:প্রকাশ করতে হলে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত কে বেশি প্রয়োজন বলে সুশীল সমাজ মনে করেন।শেখ সাদী (র:)একটি উক্তি পাঠকদের পুনরায় মনে করিযে দেই।একদিন শেখ সাদী (র:),মাটি কে প্রশ্ন করল’হে মাটি তোমার গায়ে এত খুসব কেন!তখন জবাবে মাটি বললো” আমি ছিলাম আতরের বহুকালধরে তাই এত….।”একটি রাষ্ট্র যখন তার পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র সাথে দীর্ঘদিন সু-সম্পর্ক বজায় রাখলে সুফল বয়ে আনবে অচিরেই। আমরা যদি পুরানো দিনের দিকে নজর দেই, তাহলে বিষয়টি সহজ ভাবে উপলদ্ধি করতে পারি।ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ভিত রচিত হয়েছিল মূলত ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সরকার এবং সেদেশের জনগণের সার্বিক সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে।

Wednesday, May 30, 2018

সবুজ পাহাড়ে কালো মেঘের ছায়া...


বাংলার জনক, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশ কে সোনার বাংলায় রুপান্তর করতে। কিন্তু বিপদগামীদের কবলে প্রাণ হারাল জাতীর প্রান পুরুষ, মহান মানুষটি ও তার পরিবার পরিজনরা। তিনি পাহাড়ে শান্তির জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন। তাহার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা অশান্ত পাহাড়ে শান্তির জন্য কাজ করছেন এবং তিনিই পারবেন পার্বত্য এলাকায় শান্তি এনে দিতে, এ জন্য সকল সম্পদয়ের নাগরিকরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সরকার ও জনগন একে অপরের যেমন মুদ্রার এ পিঠ অপর পিঠ।
আমরা যদি দেশটি কে একটি গাছের সাথে তুলনা করি, তা হলে পার্বত্য এলাকার কে সে গাছেই একটি সবুজ কচি চারা। তাকে পরিচর্যা করে তুলতে সময় লাগে, অনেক বছর পর পূর্ণতা পায়। পাবর্ত্য এলাকায় পাহাড়ী-বাঙ্গালী ভাগে বিভক্ত করে দেখার অবকাশ নেই। বাঙ্গালীরা যেমন পাহাড়ে বসবাস করে পাশাপাশি বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে প্রায় ১১টি সম্প্রদায়ের লোকজন। সম্প্রীতির গড়ে তুলতে হলে বিভক্ত ধারা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

Tuesday, May 22, 2018

লামায় স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


কার্টেসিঃ মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সাংবাদিক, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
***********************************************************************
লামায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ (সার্বক্ষণিক) স্বাভাবিক প্রসব সেবা জোরদারকরণ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়েই স্বাস্থ্য সেবাকে এগিয়ে নিতে হবে। একটি পরিচছন্ন পরিবেশে জম্ম নেয়া শিশুটি ভবিষ্যতে ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়ন হলে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া সহজ হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়েই স্বাস্থ্য সেবাকে এগিয়ে নিতে হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দেগুলোতে অনুকুল পরিবেশ থাকলে একজন গর্ভবতী মা কখনো প্রাইভেট ক্লিনিকে যাবেন না।

নিরাপদ মাতৃত্ব’র লক্ষমাত্রার্জন করতে হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনসংখ্যানুপাতে জনবল নিয়োগসহ অবকাঠামো উন্নয়ন জোরদার করা প্রয়োজন। তাহলেই কোন গর্ভবতী মাকে বিপদের সম্মুখিন হতে হবে না। প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রাংশ না থাকায় সরকারি হাসপাতালে গিয়ে মাতৃত্বজনিত সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছেন। পরিবার পরিকল্পনা বান্দরবান উপ-পরিচালক ডা: অংচানু-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি, লামা আলীকদম আলীকদম উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিরিণা আক্তার, বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য থোয়াইচাহ্লা মার্মা, মোস্তফা জামাল, লামা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শরাবান তহুরা ও ইউএনডিপি প্রতিনিধি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণে একটি উপস্থাপনা করেন ডা: ফাহমিদা সুলতানা উপ-পরিচালক এমসিএইচ (সার্ভিসেস) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। লামা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের ডা: নয়ন চন্দ্র দেবনাথ ও জোবাইরা বেগম।
অবহিতকরণ সভা সঞ্চালনা করেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-সহকারি কমিউিনিটি মেডিকেল অফিসার মামুন চৌধুরী। কর্মশালায় লামা-আলীকদম উপজেলার মেডিকেল অফিসার, লামা প্রেসক্লাব সভপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, আলীকদম প্রেসক্লাব সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, লামা প্রেসক্লাব সেক্রেটারী মো: কামরুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান ফেদৌস আহমেদ, ফগ্যা মার্মা, ফরিদুল আলম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। 

কর্মশালায় অংশ গ্রহনকারীদেরকে নয় শ্ টাকা, একটি বেগ, নোটবুক-কলম ও ইফতার সামগ্রী দেয়া হয়।

Monday, May 7, 2018

লামায় এনজিও কর্মী নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার না দেয়ায় ডিসি বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান


কার্টেসিঃ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক, লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
*************************************************************************
বান্দরবানে লামায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) তৈমু ও তাজিংডং এ কর্মী নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার না দেয়ায় প্রতিকার চেয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে লামার স্থানীয় জনগণ। সোমবার (৭ মে) সকালে শতাধিক শিক্ষিত বেকার ছেলে-মেয়েরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করা হবে। 
অভিযোগ উঠেছে এইসব এনজিওতে দায়িত্বরত অধিকাংশ কর্তা ব্যক্তিরা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার হওয়ায় তারা স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কারচুপি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে কৌশলে বাদ দিয়ে তাদের পছন্দমত লোকজন নিয়োগ করছে। এতে করে জেলার সব চেয়ে জনবহুল ও বৃহত্তর লামা উপজেলায় ক্রমেই শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের সংখ্যা বেড়ে চলছে।

Sunday, May 6, 2018

লামায় এনজিওতে জনবল নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে না!!!

কার্টেসিঃ মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সাংবাদিক, লামা।
******************************
লামায় বেসরকারি (এনজি) প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগে স্থানীয়দেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার সব চেয়ে জনবহুল বৃহত্তর লামা উপজেলায় ক্রমেই শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের সংখ্যা বেড়ে চলছে। এই উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশির ভাগ নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়িসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার জেলার বিভন্নি উপজেলার নাগরিকরা। এর ফলে স্থানীয় পাহাড়ী জনগোষ্ঠির শিক্ষিত প্রজম্মে বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনজিও নীতিমালায় কর্মচারী বা কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতানুসারে স্থানীয়রা চাকুরী পাচ্ছেনা এই উপজেলা কর্মরত এনজিও গুলোতে। এধরণের অভিযোগ নিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষিত পাহাড়ী ছেলে-মেয়েরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যাগ নিয়েছেন।
**
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১২/৪/২০১২ খ্রিঃ তারিখ জারিকৃত বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ঠ বাংলাদেশী বেসরকারী সেচ্ছাসেবী (এনজিও) ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কার্যপ্রণালী শীর্ষক পরিপত্রে তিনটি পার্বত্য জেলার জন্য কিছু বিশেষ বিধানাবলী উল্লেখ আছে। পরিপত্রের ৫(জ) অনুচেছদে পার্বত্য চট্রগ্রামে এনজিওসমুহের কার্যক্রম তত্ত্বাবধ্যন ও মূল্যায়ন করার জন্য জেলা পর্যায়ে  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যন আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসককে সদস্য সচিব করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে দেয়া হয়।
**
এই বিধানাবলীর খ) অনুচ্ছদে উল্লেখিত; ‘এনজিওসমূহ পার্বত্য জেলাসমূহে সকল প্রকার ইতিবাচক, উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে’।
গ)  অনুচ্ছদে উল্খে আছে;  ‘উন্নয়নমূলক বা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পূর্বে পার্বত্য জেলাসমূহের সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিরাজমান সমস্যা ও এলাকার অধিবাসীদের প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত করতে হবে। অতঃ পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিরাজমান সমস্যা ও এলাকার অধিবাসীদের প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে এনজিওসমূহকে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে’। স্থানীয় পাহাড়ী শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের দাবী অনুযায়ী উল্লেখিত বিধানাবলীর ‘খ’ ও ‘গ’ অনুচ্ছেদ দু’টি স্পষ্টত: লক্ষণ হচ্ছে।
**
স্থানীয় শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদেরকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রদান ও ইতোপূর্বে অন্য জেলা থেকে লামার কোটায় নিয়োগ প্রাপ্তদের এই উপজেলা থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবীও উঠেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৈমু ও তাজিংডং নামের আরেকটি এনজিও এই অনিয়ম করে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দু’টি এনজিও লামা উপজেলায় বিভিন্ন পদে প্রায়-২৩০জনকে নিয়োগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে তৈমু- ১১৫ ও তাজিংডং- ১১৪ জন। স্থানীয়দের আশংকা এসব নিয়োগে পূর্বের ন্যয় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে। স্থানীয়দের দাবী; এসব নিয়োগে যেন তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। না হয় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
**
জনগোষ্ঠির উন্নয়নের জন্য এনজিও সংস্থাগুলোর অধিনে নিয়োগ প্রাপ্তরা ভিন্ন জেলার নাগরিক হওয়ায় নানা ধরণের বিভ্রান্তিও হচ্ছে। নৃ-জনগোষ্ঠির চেহারা ও ভাষাগত প্রায়ই মিল থাকায়, এই কর্মকান্ড’র অজুহাতে পাহাড়ে ভিনদেশিদের কোন অপতৎপরতা হচ্ছে কিনা, তাও ভাবার বিষয়। স্থানীয় শিক্ষিত প্রজম্মের মতে বৃহত্তর লামা উপজেলায় শিক্ষার দিক থেকে এখন পাহাড়ী ছেলে-মেয়েরা অনেকখানি এগিয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন নাম করা কলেজ-ইউনির্ভসিটি, ভোকেশনাল ইনিষ্টিটিউট থেকে বিভিন্ন পেশায় ডিপ্লোমাধারীর সংখ্যা অনেক রয়েছে।
**
নানান জটিলতায় সরকারি চাকরি পাওয়ারও নিশ্চিয়তা হয়তো অনেকের নেই। তার আগে কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে পরিবারের উপর চাপ কমানোই তাদের লক্ষ। এই বাস্তবতায় লামা উপজেলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ স্থানীয়দের প্রাধান্য দেয়া উচিৎ।
বিষয়টির প্রতি বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক নজর দেয়া প্রয়োজন রয়েছে।